5GB-Monthly

নিজেকে আরো বেশি কার্যক্ষম করার দশটি সেরা উপায়!

 












হ্যলো বন্ধুরাকেমন আছেন আপনারা সবাইআশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমরা তো আমাদের নিজেদের কাজ নিজে করতে অনেকেই ভালোবাসি। অধিকাংশ  মানুষই নিয়মমাফিক নিজেদের কাজগুলো করে যায়।আমরা অনেক সময় কাজ করতে করতে ক্লান্ত বা বোরিং হয়ে যায়, তাই আমরা আপনাদের আজকে ১০ টি টিপস দিব যা থেকে আপনারা আপনাদের কার্যক্ষম আর-ও বাড়াতে পারেন। অনেক অলস মানুষ আছে যারা কাজ করতে ভয় পায় আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখে ফলে অনেক কাজ বেড়ে যায়। তারা ঠিকমত কাজ করে না তাই তাদের এক প্রকর মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। আজকের এই পোষ্ট-টি আপনারা পড়তে থাকেন তাহলে আপনি-ও আপনার কাজের কার্যক্ষম বাড়াতে পারবেন।

 প্রত্যেকেই চায় কম সময়েসঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজেকে আরো বেশি কার্যক্ষম করে তুলতে। কিন্তু সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে তেমনটা হয়ে উঠে না। আজ এমনই কিছু উপায় নিয়ে লিখবো যেগুলো খুব সহজেই আপনাকে করে তুলবে আরো কার্যক্ষম১) নিজেকে সুস্থ্য এবং সুখী রাখতে হবে।আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা কাজের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে নিজের শরীরের সুস্থতা এবং মানসিক প্রশান্তির কথা ভুলে যান। নিয়মিত খাবার না খাওয়া সহ ব্যায়াম এবং বিশ্রামের মতো  সবচাইতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর প্রতি অবহেলা করে থাকেন। আর  এসব অবহেলা করার কারণে তাদের  শরীরে বিভিন্ন রোগের বাসা বাঁধে। তাই আপনাকে সুস্থ্য এবং সবল থাকতে হবে । আপনাকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে  সুস্থ্য  থাকতে হবে তাহলে আপনার কাজ করার প্রতি আগ্রহ বেঁড়ে যাবে। শারীরিক সুস্থ্যতার জন্য নিয়মিত খাবার খেতে হবে এবং মানসিক সুস্থ্যত্যার জন্য বেশী বেশী বই পড়তে হবে।২)নিজের কাজের প্রতি ইতিবাচক চিন্তা রাখতে হবে

কাজের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়ার জন্য  বহুল প্রচলিত উপদেশটি হচ্ছেইতিবাচক থাকুন এবং  ইতিবাচক চিন্তা করুন। ইতিবাচক ফলাফলগুলো আপনা আপনি আসতে থাকবে।

 

আপনি যদি কোন কাজ শুরু করার আগে ইতিবাচক বা ভালো চিন্তা নিয়ে কাজ-টি শুরু করেন তাহলে আপনার সেই কাজের ফলাফল ভালো আসবেই। আর আপনি যদি কাজ শুরু করার আগে  থেকেই নেতিবাচক চিন্তা করেন তাহলে সেই কাজে কখনো আশানূরুপ ফলাফল আসবে না। আপনার মনে একটি প্রশ্ন জাগে “কাজ-টি কি করে সফলতা আসবে” এধরনের বিভিন্ন সন্দেহ জনক  প্রশ্ন আসে যার কারণে আমাদের চিন্তা-ভাবণা নেতিবাচক হয়ে যায়। যার কারণে আমাদের কাজ-টি আর শুরু ক্রা হয়ে ওঠে না। তাই এসব  নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা দূর করে ইতিবাচক চিন্তা শুরু করূণ তাহলে আপনার কাজের ফলাফল ভালো আসবে।

 

৩)প্রতিদিন কাজ শুরুর আগে  একটা তালিকা তৈরি করুন।

আমরা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই সারাদিনের অসংখ্য কাজ করার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকি। এতশত কাজকিন্তু কোন কাজ-টি রেখে কোন কাজ-টি আগে করবো তা নিয়ে ঝামেলায় পড়ে যাই। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রত্যেকের উচিত ঘুমানোর আগে পরেরদিনের কাজের একটি লিস্ট বা তালিকা করে রাখা  আপনি কোন কাজ শুরু করার আগে যদি একটি তালিকা করে রাখেন তাহলে আপনার কোন কাজ বাকি থাকবে না।কারণাআপনি আপনার কাজের তালিকা অনুযায়ী কাজ করছেন ফলে ঝামেলামুক্তভাবে সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। তাই যখন আপনারা কোন একটি কাজ শুরু করবেন ঠিক তার আগে একটা কাজের রূটিন বা কাজের তালিকা  তৈরি করে নেবেন।


৪)দিনের নির্দিষ্ট একটি কাজ শেষ করার প্রতি মনোযোগী হোনপ্রতিদিন এমন একটি কাজ  করুন যেটি ঐদিনেই শেষ করা যাবে। কাজটি ছোট  কিংবা বড় হতে পারে। এমনও হতে পারে ঐ কাজটি আপনার বড় কোনো প্রকল্পের নির্দিষ্ট একটি অংশ।  কিন্তু কাজটি যেন প্রয়োজনীয় হয় সে দিকেও খেয়াল রাখুন। এতে করে আপনার বৃহৎ বৃহৎ লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য আপনাকে আরো বেশি কার্যক্ষম করে তুলবে। আর আপনি যখন  প্রতিদিন লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি করে কাজ শেষ করে ফেলবেন। সপ্তাহ কিংবা মাস শেষে দেখবেন আপনি অনেকগুলো কাজ গুছিয়ে ফেলেছেন৫) কাজের সময় ইলেকট্রিক্যাল ডিভাইসগুলোকে শব্দহীন রাখুন

বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তির যুগে মোবাইলকম্পিউটারসহ এসব ইলেকট্রিকাল ডিভাইসগুলোর ই-মেইলফেসবুক এর মতো সেবাগুলো আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। ব্যক্তিুগত জীবন থেকে শুরু করে কর্পোরেট জীবন পর্যন্ত এদের বিস্তর প্রভাব রয়েছে। আজকাল আমরা এসবের বাইরে নিজেদের চিন্তাও করতে পারি না। কিন্তু এ সেবাগুলোই বিভিন্ন সময় আমাদের কার্যক্রমগুলোতে বাঁধা প্রদান করে থাকে। বিশেষ করে আপনি যখন কোনো কাজে মনোযোগী হবেনতখন ই-মেইলমেসেজের নোটিফিকেশন কিংবা ফোন কলের মতো সেবাগুলোও আপনার মনোযোগ ভঙ্গ করতে সক্ষম। তাই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ডিভাইসগুলোকে শব্দহীন অবস্থায় রাখুন। এতে করে পূর্ণ মনযোগের সাথে নিজের কাজগুলো সম্পাদন করতে পারবেন।

 

৬) না কথা-টি বলতে শিখুন।

আপনি যখন কোন কাজ করতে বসেন তখন আপনার মনে অনেক প্রশ্ন আসা শুরু করবে। “আদেও কি আমি এই কাজ টি করতে পারবো” এধরনের বিভিন্ন প্রশ্ন আপনার  মনে আসবে। আপনি যদি ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে কাজ-টি শুরু করেন তাহলে এসব প্রশ্ন আসবে না। না’ বলাটা একটি বৈধ প্রতিক্রিয়া। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই এই ছোট শব্দটি বলতে দ্বিধা বোধ করে। ধরুনকেউ আপনাকে একটি কাজ করার জন্য বললো। কিংবা কোথাও যাওয়ার ব্যাপারে অনুরোধ করলো। কিন্তু ঐ কাজটিতে আপনার বিন্দু মাত্র আগ্রহ নেই। তা স্বত্ত্বেও কাজটি করতে যাওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত বলে আপনি মনে করেনএমনকি আপনার নিজেকেও এমন কিছু করার ব্যাপারে না করুনযেটি আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ের অপচয় করবে। কিংবা যে কাজটিতে আপনি আরাম বোধ করেন না। যতক্ষণ না মনে হবে কোনো একটি কাজে আপনি  আরাম বোধ করছেনআনন্দ পাচ্ছেনঅথবা কাজটি অতীব প্রয়োজনীয়ততক্ষণ পর্যন্ত কাজটি করার ব্যাপারে হ্যা’ বলবেন না।

৭) করণীয় কাজটির সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখুন

ধরুনআপনি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। কিন্তু প্রকল্পটি কিভাবে অগ্রসর হবেশুরুটা কিভাবে হবেএটি সম্পন্ন করতে কি কি লাগতে পারেকত সময় ধরে কাজ করতে হবেসম্ভাব্য ফলাফল কি আশা করছেন। এইসব ব্যাপারগুলো  সম্পর্কে যদি সঠিক ধারণা না থাকে তাহলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আপনি আটকে যেতে পারেন। তাই কাজটি শুরু করার আগে এর সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিন। কাজ সম্পর্কিত কোনো বই পরে হতে পারে। অভিজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। কিংবা খুব সহজে গুগল করেও আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ব্যাপারগুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পেতে পারেন। এরপর সব মিলিয়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে একটি ফ্লো-চার্ট করুন এবং কাজে নেমে যান।

৮) ভুল এবং ব্যর্থতা থেকে শিখুনআবার শুরু করুন এবং এগিয়ে যান

পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক সফল ব্যক্তির একই গল্প। আপনি যদি দৈনন্দিন কাজগুলোতে ভুল করে বসেন। একটি প্রকল্প হাতে নিয়েও যদি তাতে ব্যর্থ হন। তাহলে এতে বিমূঢ় হওয়ার কিছু নেই। ব্যর্থ হয়ে যত বেশি মন খারাপ করে বসে থাকবেভুলগুলোর জন্য যত বেশি নিজেকে দোষী করবেনআপনার কার্যক্ষমতা তত বেশি হ্রাস পাবে। সময় অপচয় হবে এবং একটা সময় সঠিক পথ থেকে ছিটকে যাবেন। তাই ব্যর্থতাগুলোর জন্য মন খারাপ না করে সেখান থেকে শিখুন এবং সঠিক ধারণা নিয়ে এগিয়ে যান।

৯) পড়ুনপড়ুন এবং বারবার পড়ুন

প্রত্যেক সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি বই শেষ করার চেষ্টা করুনফিকশন কিংবা নন-ফিকশন। নিজের কাজের সাথে মিলতে হবে ব্যাপারটা তেমন না। কিন্তু আপনি যত বেশি পড়বেন তত বেশি আপনার মস্তিষ্ক খুলে যাবে। নতুন নতুন আইডিয়া মাথায় খেলা করবে। যেগুলো খুব সহজেই বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারবেন।

১০) নিজেকে পুরস্কৃত করুন

ছোটবড় যেকোনো কাজ সফল ভাবে সম্পন্ন করার পর নিজেকে তার জন্য কিছু একটা উপহার দিন। সেটা এককাপ কফিও হতে পারে। এতে করে নিজের প্রতি নিজের আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। এটি অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করবে। যার কারণে পরবর্তী প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করার জন্য আরো বেশি উৎসাহ পাবেন।


আশা করি এই পোষ্ট-টি পড়ে আপনাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে  এই পোষ্ট-টি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন । আর আপনি যদি এমনি পোষ্ট পড়তে ভালোবাসেন তাহলে আমাদের সাথে থাকতে পারেন।

 

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
close