অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? অনলাইনে আয়ের সেরা উপায় কোনটি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? অনলাইনে আয়ের সেরা উপায় কোনটি?
আমরা সবাই অনলাইনে কাজ করে অর্থ  উপার্জন করতে চাই। অনলাইনে আয়ের বিভিন্ন উপায় আছে, যেমনঃ ওয়েব ডিজাইন এন্ড ওয়েবডেভেলপমেন্ট,  গ্রাফিক্স ডিজাইন,ভিডিও এডিটিং,ইউটিউবের ভিডিও তৈরি, মোশন গ্রাফিক্স,অ্যাপ্লিকেশন ডেভলপমেন্ট, পেইড টু ক্লিক ছাড়াও অনলাইনে অনেক কাজ আছে যেগুলো করে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব কিন্তু এগুলো স্কিলভিত্তিক কাজ যেগুলোতে আপনার স্কিলের উপর নির্ভর করে কাজ করতে হয়। তবে এর বাইরেও একটি অনলাইনে আয়ের সেরা উপায় আছে আর সেটি হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে প্যাসিভ আয়ের জন্য সেরা উপায়। যেকোন কাজের দুইটি উপায় আছে ।
(১) এক্টিভ ইঙ্কাম।
(২)প্যাসিভ ইঙ্কাম ।

এক্টিভ ইঙ্কাম কি?

এক্টিভ ইঙ্কাম হচ্ছে এমন কাজ যে কাজ করলে শুধু শধু কাজই করে যেতে হয়। যেমনঃ চাকরি । আপনি যদি একজন চাকুরীজীবী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার  সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত অফিসের কাজ করতে হয় । আর এই কাজ গুলো  হচ্ছে এক্টিভ ইঙ্কাম।

প্যাসিভ ইঙ্কাম কি?

প্যাসিভ  ইঙ্কাম হচ্ছে সেই সমস্ত ইঙ্কাম যে  ইঙ্কামের কাজ একবার বা কয়েকবার করে রাখলে বারবার সেই কাজের ফলাফল আসতে থাকে। আমরা যেগুলো রয়্যালিটি ইঙ্কাম বলে বেশী চিনে থাকি। যেমনঃ কোন কবি বা লেখক কোন গল্প বা কবিতা লিখে প্রকাশ করে তাহলে সেই গল্প বা বই যতবার বিক্রি হবে সেই বই থেকে সেই বইয়ের লেখক ততবার কমিশন পাবে। আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে প্যাসিভ আয়ের জন্য সেরা উপায়। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং  এর অর্থ হচ্ছে  বিপণন , প্রচার করা বা বিক্রি করা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে আপনি কোন কোম্পানীর বা দোকানের কোন প্রডাক্ট বা পন্য বিক্রি করে দেবেন তার  বিনিময়ে সেই কোম্পানী আপনাকে নিদিষ্ট পরিমাণে কমিশন  দেবে এটাই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ।

উদাহরণ স্বরূপঃ মনে করুন আপনি amazon.com থেকে  অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট করে সেখান থেকে আপনি একটি মোটরসাইকেল বিক্রয়ে/Sale করলেন। যদি মোটরসাইকেলের মূল্য ১০০০০০/- টাকা হয়, এবং আপনি যদি ৫% কমিশন পান তাহলে আপনার আয় হবে। ১০০০০০*৫% = ৫০০০/- টাকা।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে আয় হয় ?
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ টা হচ্ছে কোম্পানীর প্রডাক্ট বিক্রি করে দেওয়া এর জন্য  দরকার প্রচুর পরিমাণে সেই প্রডাক্ট প্রচার করা । প্রচার করার মাধ্যমে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে যদি সেই প্রডাক্টটি ক্রয় করে তাহলে আপনি সেই প্রডাক্টের জন্য নিদিষ্ট হারে একটা কমিশন পাবেন। আর যদি আপনার অ্যাফিলিয়েট  লিঙ্কে ক্লিক করে যদি কোন প্রডাক্ট কেউ না ক্রয় করে তাহলে আপনি কোন কমিশন পাবেন না । মূলত আপনার প্রডাক্ট বিক্রির উপর নির্ভর করে আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে  আয় হয় হয় ।


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রডাক্ট কয় ধরনের  হয়ে থাকে?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রডাক্ট মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে।

১। ডিজিটাল প্রডাক্ট।

২। ফিজিক্যাল প্রডাক্ট।

৩।লিড জেনারেশন।


ডিজিটাল প্রডাক্ট

ডিজিটাল পণ্য হল যে সকল পণ্যে সাদৃশ্য নয়, অর্থাৎ ভার্চুয়ালি ব্যবহার করতে হয়, সে সকল পণ্য হচ্ছে ডিজিটাল প্রোডাক্ট/Product, যেমন, ই-বুক, ওয়েব হোস্টিং, ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন, কোন সফটওয়্যার,  অনলাইন  ক্লাস, ভিডিও ইত্যাদি। যারা অনলাইন এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing করেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ডিজিটাল প্রোডাক্ট। ডিজিটাল পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে 5% থেকে শুরু করে 70%  পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়।

[কয়েকটি ডিজিটাল প্রডাক্ট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট হচ্ছে ঃ ক্লিক ব্যাংক,যেভিযু,ডায়ানাহোস্ট,ও্যারিয়র প্লাস এবং  বিভিন্ন ডোমেইন হোস্টিং ওয়েবসাইট।]

 ফিজিক্যাল প্রডাক্ট

ফিজিক্যাল Product অর্থাৎ যে সমস্ত জন্য আমরা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে থাকি। যেমন, ইলেকট্রিক পণ্য, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, ফার্নিচার, পোশাক, ফলমূল এবং খাবার ইত্যাদি । এ সকল পণ্য 2%  থেকে শুরু করে 20% পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়। এ সকল পণ্য নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing করতে হলে অবশ্যই ডেলিভারির কথা মাথায় রাখতে হবে। আপনি যে কোম্পানির পণ্য সেল করবেন সে কোম্পানি ঠিকমতো ডেলিভারি দিচ্ছে কিনা, এই সমস্ত ব্যাপারে আপনাকে অবশ্যই ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

[ কয়েকটি  ফিজিক্যাল প্রডাক্ট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট হচ্ছেঃ অ্যামাজন, দারাজ, বিডিশপ,চয়েসবার্ড ইত্যাদি ]

লিড জেনারেশন

এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing করার জন্য আরও একটি জনপ্রিয় প্রডাক্ট হচ্ছে লিড জেনারেশন, এই মার্কেটিংটাকে  আমরা অনেকেই সি.পি.এ[ কস্ট পার অ্যাকশন] মার্কেটিং নামে বেশী চিনে থাকি। অর্থাৎ আপনি শুধুমাত্র তাদের Product এর জন্য মার্কেটিং করবেন এবং আপনার ক্রেতারা তাদের ক্রেডিট বা টাকা খরচ করে কোন পণ্য কিনতে হবে না কিন্তু আপনি কমিশন পেয়ে যাবেন। যেমন, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস সাইনআপ, ই-মেইল সাবস্ক্রিপশন, চ্যানেল সাবস্ক্রাইব, অ্যাপস ডাউনলোড ইনস্টল, ভিডিও ভিউজ।

কিভাবে অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক প্রমোট করা যায়?

অ্যাফিলিয়েট লিংক দুইভাবে  প্রমোট  করা যায়।

১। ফ্রি প্রমোশন।
২।পেইড প্রমোশন ।

ফ্রি প্রমোশন।

কয়েক ধরনের মাধ্যম দিয়ে অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক ফ্রি প্রমোট করা যায়। যেমনঃ-
*সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ।
*ভিডিও মার্কেটিং।
*ই-মেইল মার্কেটিং।
*এস.ই.ও ।
*ব্লগপোস্ট অথবা আর্টিকেল রাইটিং। [ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে]


এছড়াও অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক ফ্রি-তে প্রমোশন করা যায় । যেমন আপনি যদি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যদি এক্টিভ হয়ে থাকেন তাহলে আপনি এই অ্যাফিলিয়েট লিংকটি ফ্রি-তেই প্রমোশন করিয়ে নিতে পারেন যেমন। আমর বর্তমান সময়ে সবাই ফেসবুক ব্যবহার করে থাকি।  আর এই ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিঙ্কটাকে প্রমোট করে সেলস জেনারেট করতে হবে । আপনার যদি একোটি ফেইসবুক পেইজ অথবা গ্রুপ থাকে আর এই ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপটাকে অনেক বড় করতে হবে বিভিন্ন দেশের লোকের ইনভাইট করতে হবে। এবং নিয়মিত আপনার অ্যাফিলিয়েট এর প্রডাক্টের লিংকটা শেয়ার করতে হবে । আর এভাবেই শেয়ার করতে থাকলে এক-সময় সেল জেনারেট হবে । আর আপনি চাইলে আপনার ইউটিউব চ্যানেল, লাইকি,টিকটক আইডি দিয়েও ফ্রি ভিডিও মার্কেটিং করে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংকের ফ্রি প্রমোট করে টাকা আয় করতে পারেন।

পেইড প্রমোশন

পেইড প্রমোশন হচ্ছে টাকার বিনিময়ে প্রমোট করিয়ে নেওয়া।  অর্থাৎ আপনার টাকার বিনিময়ে কোন অ্যাফিলিয়েট প্রডাক্টের লিঙ্ক প্রমোট করে সেলস জেনারেট করাই হচ্ছে পেইড প্রমোশন। তবে এতে আপনার বেশী কষ্ট বা প্রমোশন করতে হবে  না ।আপনি ফেসবুক বা গুগোল কে টাকা দিবেন আর এই টাকার বিনিময়ে আপনার অ্যাফিলিয়েট প্রডাক্টের লিংক টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৈছায় দেবে এবং সেলস হতে থাকবে । এতে করে আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও টাকা আয় হতে থাকবে ।


 অনলাইনে আয়ের সেরা উপায় কোনটি?
অনলাইনে আয় করার বিভিন্ন উপায় আছে তবে সব কাজের ধরন একরকম নয় কোন কাজ আছে স্কিল ভিত্তিক আবার কোন কাজ আছে ক্রিয়েটিভ ভিত্তিক আবার অনেক কাজ আছে  মার্কেটিং ।তবে প্যাসিভ আয়ের  জন্য অনলাইনে আয়ের সবচেয়ে সেরা উপায় উপায় হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ।

কিভাবে অ্যাফিলিয়েট প্রগ্রামে জয়েন হওয়া যায়?

যারা অ্যাফিলিয়েট করাতে চান তাদের একটি করে অ্যাফিলিয়েট প্রগ্রাম থাকে। বেশীরভাগ ওয়েবসাইটের নিচের দিকের ফুটার মেনুতে অ্যাফিলিয়েট প্রগ্রাম থাকে  সেখান থেকে অ্যাফিলিয়েট প্রগ্রামে জয়েন হওয়া যায়। সাধারণ্ট কোন অ্যাফিলিয়েট প্রগ্রামে জয়েন হওয়ার পর ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্য এপ্রুভড করে দেয়।


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইন থেকে কত টাকা আয় করা সম্ভব ?
এখন কথা হচ্ছে আপনি কষ্ট করে এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing শিখলেন, অনেক সময় ব্যয় করে ফ্রি ভাবে অথবা টাকা খরচ করে পেইড ভাবে। এখন কথা হচ্ছে আপনি কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন? এ প্রশ্নের একটাই উত্তর, আনলিমিটেড। অর্থাৎ আপনার সিলেক্ট  করা প্রডাক্টটি যতবার বিক্রি হবে ততবার আপনি কমিশন পেতে থাকবেন ।

আশা করি  এই পোস্টের মাধ্যমে আপনারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে কিছু জানতে পারলেন। এই ধরনের ইনফরমেটিভ পোস্ট পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন।

ভিডিও দেখুনঃ-

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন