ফ্রিলান্সিং সেক্টরে কাজে লাগে এমন কয়েকটি ওয়েবসাইট!

 

ফ্রিলান্সিং সেক্টরে কাজে লাগে এমন কয়েকটি ওয়েবসাইট!

আমরা যারা ফ্রিলান্সিং করে থাকি আমাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইট  অথবা টুলসের  প্রয়োজন  হয়ে থাকে।  আজ আমরা  এমন কয়েকটি ওয়েবসাইট শেয়ার করব যেগুলো আপনার ফ্রিলান্সিং বা অন্যান্য কাজে লাগতে পারে। 

প্রথমে আমরা যে ওয়েবসাইট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব সে-টি হলোঃ 


TinyPNG

এটি একটি ইমেজ কম্প্রেশন টুলস এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের যে ছবি রয়েছে সেই ছবিগুলোকে অপটিমাইজড করতে  পারবেন। আপনি যদি ফ্রিলান্সিং  বা আপনার ওয়েবসাইটের জন্য স্পিড অপ্টিমাইজের কাজ করেন বা এস.ই.ও কাজ করে থাকেন তাহলে ইমেজ অপ্টিমাইজড খুবই গুরুত্বপূর্ণ  সেক্ষেত্রে আপনি এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার বায়ারের  অথবা আপনার ব্লগসাইট অথবা ওয়েবসাইটের ইমেজ অপ্টিমাইজড করতে পারেন। আপনি এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে একসাথে ২০ টি ছবি এবং সর্বোচ্চ ৫ মেগাবাইটের ছবি একসাথে অপ্টিমাউইজড করতে পারেন। আর এই ওয়েবসাইটে শুধু  JPG এবং PNG ফরম্যাটের ছবি অপ্টমআইজড করতে পারবেন।  

আপনি এই ওয়েবসাইটের অল্টারনেটিভ আর একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন। আর সেই ওয়েবসাইটটি হলো ঃ-

Comprassior.io

এটিও একটি ওয়েবসাইটের ছবি অপটিমাইজড করার আরএকটি সেরা ওয়েবসাইট ।  এই ওয়েবসাইট দিয়ে  বিভিন্ন ফরম্যাটের ছবি কম্প্রেশন  করা যায়। তবে Tinypng এবং এই ওয়েবসাইটের মধ্য কিছু পার্থক্য রয়েছে Tinypng  ওয়েবসাইটে  একসাথে ২০ টি ছবি অপ্টিমাইজড করা যায় কিন্তু এই এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে একটি একটি ছবি আপলোড করে অপ্টিমাইজড করা যায়।

Canva

ক্যানভা হচ্ছে অনলাইনবেস ছবি  এডিটিং ওয়েবসাইট। যেটার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের সকল ফিচারড ইমেজ ইডিটিং করতে পারেবেন। আপনি যদি ইউটিউবিং করেন তাহলে আপনার একটি প্রফেশনাল থাম্বনেইলের প্রয়োজন হয় আপনি চাইলে এই ক্যানভা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে একটি ভালোমানের থাম্বনেইল তৈরি করতে পারবেন।   এছাড়াও  ব্লগিংয়ের জন্য ফিচারড ছবি এবং ফেসবুকের কভার ডিজাইন, সোস্যাল মিডিয়ার পোষ্ট ডিজাইন ইত্যাদি কাজে  ক্যনাভা ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ইউটিউবের জন্য ইন্ট্রো এবং আউট্রো তৈরি করা যায় । আর আপনি যদি লাইফটাইমের জন্য ক্যানভা অ্যাকসের নিতে চান  তাহলে আপনাকে ক্যানভার  প্রো ভার্সনটি ক্রয় করতে হবে।

ক্যানভা ওয়েবসাইটের বিকল্প আর একটি  অনলাইনে ছবি এডিটিং ওয়েবসাইট রয়েছে আর সেটি হলোঃ-

Snappa

এটাও একটি অনলাইনে ছবি  এডিট বা গ্রাফিক্স এর কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। ক্যনাভা ওয়েবসাইটর মত এই ওয়েবসাইটে সকল ধরনের কাজ করতে পারবেন। যেমনঃ- ইমেজ এডেটিং,ব্লগিং ওয়েবসাইটের জন্য ফিচারড ইমেজ তৈরী ,ইউটিউবের জন্য থাম্বনেইল তৈরি ইত্যাদি কাজ করা যায় এই সাইটের মাধ্যমে তবে ক্যনাভারমত আনলিমিটেড কাজ করা যায় না, এখানে প্রতিমাসে পাঁচটি ছবি এডিট ও ডাউনলোড করা যায়।


Remove.bg

Remove.bg একটি অনলাইনে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট। এখানে যেকোন ছবি আপলোড করে দিলে অটোমেটিক সেই ছবির ব্যকগ্রাউন্ড রিমুভ হয়ে যায়। এই ওয়েবসাইটটি অনেকবার ব্যবহার হয়। আমরা যারা ফটোশপ বা অন্যন্য ছবির ব্যকগ্রাউন্ড রিমুভ করে থাকি তখন ব্যকগ্রাউন্ড রিমুভ করতে গেলে  অনেক সময় লাগে কিন্ত এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করলে মাত্র এক ক্লিকে যেকোন ছবির ব্যকগ্রাউন্ড রিমুভ হয়ে যায়।  আর এখন মজার ব্যাপার হচ্ছে ব্যকগ্রাউন্ড রিমুভের পাশাপাশি এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ছবি এডিটও করা যায়। এই ওয়েবসাইটটি প্রতিদিন অনেকবার ব্যবহার হয়ে থাকে। 


Adobe Photoshop Express

এটি এডোবি ফটোশপের অনলাইন ভার্সন অর্থাৎ আপনি এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ফটোশপের কিছু কিছু কাজ করতে পারবেন । যেমনঃ- ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ, ইমেজ রিসাইজ, ইমেজর কালার ফিল্টারিং সহ আর্ব  অনেক কাজ করতে পারবেন। এখানে সুবিধা  হচ্ছে কোন ছবির  ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করার পর হাই রেজুলেশনের ছবি ডাউনলোড করতে পারবেন । আর আর আগের Remove.bg ওয়েবসাইটে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করা গেলেও হাই রেজুলেশনের ছবি ডাউনলোড করা যেত না। 


Unscreen.com

এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ  করা যায়।  যারা ইউটিউবিং করেন তাদের জন্য এই ওয়েবসাইটটি সেরা । যারা ইউটিউবিং করেন তাদের বিভিন্ন সময়ে ভিডিও থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড  রিমুভ করতে হয় তার জন্য একটি গ্রিন স্ক্রিন ভিডিও করে  তারপর এডিটিং  করে  ব্যাকগ্রাউন্ড  রিমুভ  করে তারপর অন্য ব্যাকগ্রাউন্ড বসাতে হয় কিন্তু আপনি যদি এই ওয়েবসাইটের ব্যবহার নেন তাহলে যেকোন জায়গায় ভিডিও করে তারপর সেই ভিডিও ক্লিপ-টি এই ওয়েবসাইটে আপ্লোড করে দিলেই সেই ভিডিওর  ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ  হয়ে যাবে। এরপর আপনার পছন্দমত যেকোন একটি  ব্যাকগ্রাউন্ড  বসিয়ে আপনার ভিডিও নেক্সট লেভেলে নিয়ে যেতে পারেন।


Flat UI Colors 

এই ওয়েবসাইটটি যারা ওয়েবডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ  করে  থাকেন তাদের অনেক কাজে আসতে পারে। এই ওয়েবসাইটটি দিয়ে যেকোন কালার নিয়ে আপনার ডিজাইন অথবা যেকোন জায়গায় ব্যাবহার করতে পারেন । যেকোন কালারের উপর ক্লিক করলে সেই কালারের কোডটি কপি হয়ে যাবে এরপর আপনার প্রয়োজনীয়  কাজে ব্যবহার করতে পারেন। 


CSS Gradient.io

এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে যেকোন ওয়েবসাইটের কালার গ্রডিয়েন্ট অর্থাৎ দুই কালার বা অনেক কালার একসাথে পিক করা যায়। যেকোন ডিজাইন রিলেটেড কাজে এই ওয়েবসাইট থেকে  কালার  গ্রেডিয়েন্ট পিক করে ডিজাইন বা ওয়েবের কাজে ব্যবহার করা যায়।


আশা করি আপনাদের এই ওয়েবসাইটগুলো অনেক কাজে আসতে পারে। আমাদের পোষ্ট যদি ভালো লেগে  থাকে তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

Read In English

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন