আসছে প্রথম ১ টেরাবাইটের প্রথম আইফোন!

আসছে  প্রথম ১ টেরাবাইটের প্রথম আইফোন!
অবশেষে টানা কয়েক মাসের জল্পনা-কল্পনার আর গুজবের ইতি টেনেছে অ্যাপল। আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ আর অ্যাইপ্যাডের নতুন মডেল উন্মোচন করেছে মার্কিন টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে প্রথম আইফোন হিসেবে ১ টেরাবাইট মেমোরি যোগ হয়েছে আইফোর ১৩ প্রো মডেলে।

১৪ সেপ্টেম্বরের ‘ক্যালিফোর্নিয়া স্ট্রিমিং’ ইভেন্টে ভক্ত ও সমালোচকদের চমকে দেওয়ার মতো নতুন কিছু দেখায়নি অ্যাপল। তার বদলে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমান্বয়ে আগের সেবাগুলোই আরও উন্নত করার চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেছে বিবিসি। তবে বিভিন্ন ডিভাইসের হার্ডওয়্যার ও ফিচারের হিসাবে ফটোগ্রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের কাছে আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে নতুন আইফোন।


 ১৩ সংখ্যাটিকে অনেকেই বিবেচনা করেন ‘অশুভ’ সংখ্যা হিসেবে। তাই অ্যাপল হয়তো ২০২১ সাল থেকে আইফোনের নামে সংখ্যা জুড়ে দেওয়া বন্ধ করে দেবে– এমনটা মনে করেছিলেন প্রযুক্তি ভক্তদের কেউ কেউ। শেষ পর্যন্ত সত্যি প্রমাণিত হয়নি ওই আশঙ্কা। ‘আইফোন ১৩’ নামেই নামকরণ করা হয়েছে ডিভাইসটির।

 আইফোন ১৩, মিনি, প্রো এবং প্রো ম্যাক্স–নতুন আইফোনের এই চারটি সংস্করণ বাজারজাত করবে অ্যাপল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১টেরাবাইট মেমোরি সুবিধা থাকবে প্রো মডেলটিতে। এতো বেশি মেমোরি সুবিধা ছিলো না আগের কোনো আইফোনে। সর্বনিম্ন ১২৮ গিগাবাইট মেমোরি চিপ থাকবে আইফোন ১৩ মিনিতে।


 অ্যাপললাইভ স্ট্রিমিংয়ে নতুন আইফোন নিয়ে কথা বলার সময় এর নির্মাণকাজে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান ব্যবহারের উপর জোর দেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক। নতুন আইফোনের অ্যান্টেনাগুলোও ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল থেকে সংগ্রহ করা উপাদান দিয়ে তৈরি বলে জানায় অ্যাপল। ৫জি সংযোগ সুবিধাও আছে নতুন আইফোনে।

এ১৫ বায়োনিক চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে নতুন আইফোনে। ছয় কোরের সিপিইউ এর মধ্যে আছে দুটি ‘হাই-পারফর্মেন্স কোর’ এবং চারটি ‘হাই-এফিশিয়েন্সি কোর’। গতি বেড়েছে চিপসেটের নিউরাল ইঞ্জিনের।


 আর পাঁচ কোরোর জিপিইউ-এর বদৌলতে গ্রাফিক্স পারফর্মেন্স ৫০ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছেন অ্যাপলের বৈশ্বিক বাজারজাতকরণ বিভাগের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট গ্রেগ জসউইক। বাজারের অন্য যে কোনো স্মার্টফোনের তুলনায় আইফোন ১৩ প্রো’র গ্রাফিক্স পারফর্মেন্স সবচেয়ে দ্রুতগতির বলেও দাবি করেন তিনি।


 অ্যাপলস্ট্রিমিং ইভেন্টে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে আইফোন ১৩ প্রো এবং প্রো ম্যাক্সের ক্যামেরা সিস্টেম। তিনটি করে ব্যাক ক্যামেরা আছে এই দুটি মডেলে। অ্যাপল বলছে এটি এখন পর্যন্ত তাদের “সর্বাধুনিক ক্যামেরা সিস্টেম”।

 ৭৭ মিমি ফোকাল লেংথ সমতুল্য টেলিফটো লেন্স আছে আইফোন ১৩ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স মডেলে। উভয় মডেলেই দ্বিতীয় ক্যামেরায় আছে আল্টা ওয়াইড লেন্স, যার মাধ্যমে এফ ১.৮ অ্যাপারচারে ছবি তোলা যাবে। তৃতীয় ক্যামেরাটিকে শুধু ‘ওয়াইড ক্যামেরা’ বলেছে অ্যাপল, তবে এতেও এফ ১.৫ অ্যাপারচারে ছবি তোলা যাবে।

ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি করা যাবে আইফোন ১৩-তে। পেশাদার ফটোগ্রাফারদের জন্য আছে ‘ফটোগ্রাফিক স্টাইলস’ ফিচার। প্রতি সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেমের “পেশাদার মানের” ৪কে ভিডিও ধারণ করা যাবে এতে।


 ব্যাটারি লাইফের হিসেবে আইফোন ১২ প্রো এর তুলনায় এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট বেশি চলবে হবে আইফোন ১৩ প্রো। আর আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্সের তুলনায় দুই ঘণ্টা ৩০ মিনিট বেশি চলবে আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স।


গেইমিং, অ্যানিমেশন আর স্ক্রলিং আরও সহজ করবে সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে।


আইফোন ১৩ প্রো এবং প্রো ম্যাক্সের দাম হবে যথাক্রমে ৯৯৯ ডলার এবং ১০৯৯ ডলার। আইফোন ১৩ এবং মিনি সংস্করণের দাম হবে যথাক্রমে ৭৯৯ ডলার এবং ৬৯৯ ডলার।


Read In English

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
close